পোস্টগুলি

প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান - তমোঘ্ন নস্কর

ছবি
  প্রতিরোধে বীর ভারত - সন্তান   তমোঘ্ন নস্কর     চত্বারিংশ পর্ব : মদনমোহনের মর্ত্যে আগমন     বারুদের ধোঁয়া আর রক্তবর্ণ গোধূলি মিলেমিশে আশ্চর্য এক বিষাদ নেমেছে বিষ্ণুপুরের আকাশে। নগরের পরিখার চারদিকে ছড়িয়ে - ছিটিয়ে থাকা সৈন্যদের আর্তনাদ আর বর্গীদের অশ্বখুরের শব্দে বাতাস ভারী। বিষ্ণুপুরের রাজা গোপাল সিংহের সৈন্যদল তখন ও মনোবল হারায়নি ৷ লড়াই করতে চায়। কিন্তু রাজা অনড়। যুদ্ধ তিনি করবেন না। তিনি মদনমোহনের সেবা করেন। মানুষকে চারবেলা তাঁর নাম জপতে বলেন। হেন কালে যুদ্ধের মতো ভয়ংকর কাজে তিনি নিজেকে কীভাবে লিপ্ত করবেন। ক্ষোভ জমে সৈন্য এবং সর্দারদের মধ্যে। এরকম অবস্থা হলে যে সমস্ত মল্লভূম রাজ্য রসাতলে যাবে। বর্গীদের মধ্যে কোন ও রকম যোদ্ধাস্বরূপ নীতি নেই, তারা যদি এইভাবে ঢুকে পড়তে পারে শহরে তা হলে গোটা শহরকে ধূলি স্যাৎ করে দেবে। বিষ্ণুপুরের সেই শক্তি রয়েছে তাদেরকে বাধা দে ওয়ার, অথচ রাজা গোপাল দেব ভীত, অনড়। দক্ষিণ দুয়ারের কাছে নগরের বাইরে যে - সকল প্রহরী - রক্ষী - সৈন্য ছিল , তারা মারা পড়েছে শুধুমাত্র নগরের চারদিক থেকে মূল সৈন্যরা বর্গীদের ঘি...

প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান - তমোঘ্ন নস্কর

ছবি
  প্রতিরোধে বীর ভারত - সন্তান   তমোঘ্ন নস্কর     ঊনচত্বারিংশ পর্ব : ভিখারি রাজা   সন্ধ্যায় রণপ্রান্তের দেব শিবিরে শাঁখ বেজে উঠল। জয় জগন্নাথ ধ্বনিতে মুখরিত হল প্রাঙ্গণ। বাহমনি সুলতানের পতাকা ধুলোয় লুটোচ্ছিল । কপিলেন্দ্র দেব দাঁড়িয়ে ছিলেন কৃষ্ণা নদীর তীরে। নিজে নিচু হয়ে সেই পতাকা কুড়িয়ে তারপর সযত্নে ভাঁজ করে সৈনিকের হাতে দিয়ে বললেন , “ দেখো , পতাকার যেন অযত্ন না হয় । ” অবাক হয়ে সসম্ভ্রমে সৈনিকটি দেখল তাদের রাজার সারা গায়ে যুদ্ধের ক্ষত , কিন্তু মুখমণ্ডলে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। ইতিহাসের খাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হল ঔড্রদেশের এক সামান্য ভিক্ষুকের দিগ্‌বিজয়ের গল্প। যিনি বুঝিয়ে ছিলেন , কেবল সংখ্যা দিয়ে যুদ্ধ জেতা যায় না ; যুদ্ধ জিততে হয় রণকৌশল আর হার না-মানা জেদ দিয়ে। ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু চরিত্র থাকে যারা শূন্য থেকে শুরু করে আকাশ ছোঁয়ার স্পর্ধা রাখে। ওড়িশার মধ্যযুগীয় ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং তেজস্বী সম্রাট গজপতি কপিলেন্দ্র দেব ছিলেন তেমনই এক ব্যক্তিত্ব।     স্বপ্ন দর্শন   রোজ প্রভাতে দৈতাপতির পিছু পিছু...