পোস্টগুলি

শ্যামা মা কি আমার কালো - বাসুদেব ঘোষ

ছবি
  শ্যামা মা কি আমার কালো বাসুদেব ঘোষ মাইকে বাজছে, “ ওরে নবমী নিশি, না হইও রে অবসান। ” নিশি পোহালে দশমী। দেবীপ্রতিমার ভাসান হয়ে যাবে। বড়ো দুঃসহ বেদনা প্রাণের মাঝে। বুকটা কেমন হু হু করে, খালি খালি লাগে সব। খাঁ খাঁ করে নাটমন্দির। মা যখন ছিলেন, আটনে কী যে অপূর্ব শোভা! ঘরে ফিরতে ইচ্ছে করত না। দিনরাত আটচালাতেই পড়ে থাকা। খেলা আর খেলা। সমবয়সি বয়স্যরা, কাছে কাছে। সবারই একই অবস্থা। মণ্ডপ ছেড়ে কেউ আর বাড়ি যেতে চায় না। এদিকে পুঁটির মা ডেকেই চলেছে, “ আয় মা, একবার। সেই কখন সকালে দু ’ টি চা-মুড়ি খেয়ে বেরিয়েছিস। চারটি খেয়ে নিয়ে আবার খেলগে। ” কে শোনে কার কথা! পুঁটি তখন মত্ত গভীর তত্ত্ব-আলোচনায়। বিষাদের সুর তার কথায়, “ আজ তো নবমী। কালকেই যে মায়ের যাত্রা। মা আর থাকবেন না আমাদের মাঝে। ” শ্যামার চোখ লাল হয়ে ওঠে। রক্তাভ নয়নযুগলে উপচে পড়ে অশ্রু। অব্যক্ত যন্ত্রণায় ফুলে ফুলে ওঠে সে। কাঁদতে পারে না। সে শুনেছে, কাল সকালেই নাকি হবে শুভযাত্রা। সংসারের মঙ্গলকামনায় একটি মুদ্রায় মায়ের পায়ের সিঁদুর ঠেকিয়ে লক্ষ্মীর কাছে রাখা। তারপর নীলকণ্ঠ পাখি উড়িয়ে দেওয়া হবে। সেই পাখি গিয়ে কৈলাসে খবর দেবে, “ আশুতোষ মহে...

মহালয়া: সেই ছেলেবেলার দিনে… - বাসুদেব ঘোষ

ছবি
  মহালয়া: সেই ছেলেবেলার  দিনে … বাসুদেব ঘোষ   আশ্বিনের শেষ। বর্ষা বিদায় নিয়েছে। আকাশের অতলান্ত সুনীল নীলিমায় বিচরণ করছে ছোটো , বড়ো , মাঝারি মেঘের দল। ইতস্তত পেঁজা তুলোর পসরা নিয়ে পানসি ভাসায় সাদা মেঘের পুঞ্জ। তারা ‘গাভীর মতো চরে’ বেড়ায় নীল ক্যানভাসের উপর। দিঘির কালো জলের আরশিতে মুখ দেখে। ঝরে পড়ে মিষ্টি আদরের মতো হালকা দু’-এক পশলা বৃষ্টি নিয়ে। শরৎকাল জানান দিয়ে যায়। কুসুমবীজের মতো রং ধরে সকালের রোদের। নাকি শনফুলের রং। সবুজ পাতায় পাতায় ঝিলমিলিয়ে ঝিলিক দিয়ে যায় অতসী পুষ্পবর্ণ... আতপ। মা আসছেন। মায়ের গাত্রবর্ণ যে অতসী পুষ্পের ন্যায়। হাওয়া বদলের সময় এখন। হিমের পরশ ভোরের বাতাসে। জমিনে সুবিস্তৃত সবুজ গালিচা। সবুজ ফসলের খেত। ধান আর পান। টাল খায় কমলের কোরক। ঝিলের জলে চুম্বন এঁকে যায় কমলসুবাস। জলে মেশে পদ্মের সুঘ্রাণ। সুবিস্তৃত সবুজ মাঠের উপর দিয়ে বাতাস লহরী তুলে মিলিয়ে যায় দিগন্তে। সবুজ আর পঙ্কজের পরশ-গন্ধমাখা বাতাস টলটলে দিঘির বুকে মৃদুমন্দ আলোড়ন তোলে। বৃত্তের আলপনা আঁকা হয় মৃণালদণ্ডের নৃত্যের তরঙ্গে , জলতলের সমতলে। দোদুল দোলনায় দুলে দুলে শাল...

প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান - তমোঘ্ন নস্কর

ছবি
  প্রতিরোধে বীর ভারত - সন্তান   তমোঘ্ন নস্কর     পঞ্চাশৎ পর্ব : ভূতালার প্রান্তরে মরুভূমির রাত্রির একটি নিজস্ব শব্দ আছে। দিনের বেলায় যে প্রান্তরটি রুক্ষ, নিষ্প্রাণ এবং অগ্নিদগ্ধ বলে মনে হয়, রাত্রি নামলে সেই একই প্রান্তর নিমেষে বদলে যায়। বালির উপর দিয়ে বাতাস বয়ে যায়, শব্দ ওঠে সাঁই সাঁই... শত শত রাজপুত বীরের শেষ নিশ্বাস মিশে আছে বাতাসে... এটাই মরুভূমির শব্দ, তার হৃদস্পন্দন। কিন্তু না, রাতের এই নিস্তব্ধতা বেশিক্ষণ উপভোগ করা যায় না। নিস্তব্ধতা ভঙ্গ হয় পাথরের সঙ্গে ধাতুর সংঘাতের শব্দে— চিতোরের বুরুজে পাহারাদারের ঘোড়ার নালের শব্দ। সেই দিনও অমন। চাঁদহীন আকাশের নীচে আরাবল্লির কালো পাহাড়গুলি দূরে দাঁড়িয়ে ছিল নির্বাক, প্রাচীন, অচঞ্চল। যথারীতি পাহাড়ের গায়ে চিতোরের দুর্গ তখনও জেগে। চর মারফত সংবাদ এসেছে, দিল্লির সুলতান নিঃশব্দে এসে দাঁড়িয়েছেন কেল্লার প্রান্তে। এত নিখুঁত পরিকল্পনা ছিল তাঁর যে সীমান্তে সদা সতর্ক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গুপ্তচরেরাও বুঝতে পারেনি। অবশ্য তার কারণ আছে, ইতিপূর্বে যে সমস্ত শাসকেরা রাজস্থানের দিকে পা বাড়িয়েছেন, তাঁরা এসেছেন অন্য দিক থেকে। বাইরে...