পোস্টগুলি

প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান - তমোঘ্ন নস্কর

ছবি
  প্রতিরোধে বীর ভারত - সন্তান   তমোঘ্ন নস্কর     একচত্বারিংশ পর্ব : কাসাহ্রাদার যুদ্ধ   আবু পাহাড়ের নীচে কাসাহ্রাদার জঙ্গলাকীর্ণ উপত্যকাটি চুপ করে অপেক্ষা করছে আসন্ন ঝড়ের। শেষ বিকেলের রক্ত - আভা আকাশ জুড়ে, দিগন্ত রেখায় আগে থেকেই যেন রক্তের ছিটে ছড়িয়ে আছে। তপ্ত বাতাসের ঝাপটায় ধুলো ঢুকে নাক জ্বালা করছে । গেরুয়া কাপড় দিয়ে মুখ বেঁধে নিল তারা। তাদের কানে ততক্ষণে সহস্র অশ্বখুরের শব্দ এসে পৌঁছেছে। নিজেদের ছদ্মবেশ ভালো করে পরখ করে আস্তে আস্তে মিলিয়ে যেতে লাগল তারা। *** বালুকাধূসর দিগন্তের বুক চিরে ধেয়ে আসছে তুর্কি অশ্বারোহীদের এক অন্তহীন কালো রেখা। কমপক্ষে সহস্র যোদ্ধা আছে এই বাহিনীতে । ঘোড়ার খুর, তুর্কি গলাবাদ্য আর কাড়ার গর্জনে থরথর করে কাঁপছে গুজরাটের মাটি। গজনীর সুলতান মহম্মদ ঘুরির মুখে আজ দম্ভের হাসি। ভারতের স্বর্ণদ্বার তাঁর তলোয়ারের ডগায়। তার উপর শুনেছেন এই রাজ্যের রানি র রাজা নেই , এবং তিনি দারু ণ সুন্দরী । আজকের ভোজটা জম্পেশ হবে। লালসাসিক্ত জিহ্বা টা শুকনো ঠোঁটের উপর বুলিয়ে নেন ঘুরি। *** চালুক্য শিবিরের ঠিক সামনে একটা উঁচু ঢিবির উপর দা...

প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান - তমোঘ্ন নস্কর

ছবি
  প্রতিরোধে বীর ভারত - সন্তান   তমোঘ্ন নস্কর     চত্বারিংশ পর্ব : মদনমোহনের মর্ত্যে আগমন     বারুদের ধোঁয়া আর রক্তবর্ণ গোধূলি মিলেমিশে আশ্চর্য এক বিষাদ নেমেছে বিষ্ণুপুরের আকাশে। নগরের পরিখার চারদিকে ছড়িয়ে - ছিটিয়ে থাকা সৈন্যদের আর্তনাদ আর বর্গীদের অশ্বখুরের শব্দে বাতাস ভারী। বিষ্ণুপুরের রাজা গোপাল সিংহের সৈন্যদল তখন ও মনোবল হারায়নি ৷ লড়াই করতে চায়। কিন্তু রাজা অনড়। যুদ্ধ তিনি করবেন না। তিনি মদনমোহনের সেবা করেন। মানুষকে চারবেলা তাঁর নাম জপতে বলেন। হেন কালে যুদ্ধের মতো ভয়ংকর কাজে তিনি নিজেকে কীভাবে লিপ্ত করবেন। ক্ষোভ জমে সৈন্য এবং সর্দারদের মধ্যে। এরকম অবস্থা হলে যে সমস্ত মল্লভূম রাজ্য রসাতলে যাবে। বর্গীদের মধ্যে কোন ও রকম যোদ্ধাস্বরূপ নীতি নেই, তারা যদি এইভাবে ঢুকে পড়তে পারে শহরে তা হলে গোটা শহরকে ধূলি স্যাৎ করে দেবে। বিষ্ণুপুরের সেই শক্তি রয়েছে তাদেরকে বাধা দে ওয়ার, অথচ রাজা গোপাল দেব ভীত, অনড়। দক্ষিণ দুয়ারের কাছে নগরের বাইরে যে - সকল প্রহরী - রক্ষী - সৈন্য ছিল , তারা মারা পড়েছে শুধুমাত্র নগরের চারদিক থেকে মূল সৈন্যরা বর্গীদের ঘি...