পোস্টগুলি

প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান - তমোঘ্ন নস্কর

ছবি
  প্রতিরোধে বীর ভারত - সন্তান   তমোঘ্ন নস্কর     একত্রিংশ পর্ব : লাচিত   দেখতে দেখতে রাগে লাল হয়ে গেল মুখখানা। মুহূর্তে কোষ থেকে অসি উন্মুক্ত করলেন তিনি। চক্ষের নিমেষে ঘটে গেল ঘটনাটা। থরথর করে কেঁপে উঠল সমবেত শ্রমিক এবং রক্ষীগণ। তাদের উল্টোদিকে যে-মানুষটা দাঁড়িয়ে আছে, সেই মানুষটার দিকে তারা তাকাতেও ভয় পাচ্ছে। কিন্তু যদি তাকিয়ে দেখত, তা হলে দেখতে পেত তার চোখের জলে ক্রোধের আগুন নির্বাপিত হয়েছে।   ***   ঘোড়া ছুটিয়ে নিজের ঘরের দুয়ারে এসে থামলেন তিনি। হাউমাউ করে ছুটে এলেন তাঁর মা। আঁচড়ে, কামড়ে থাপ্পড় মেরে লুটিয়ে পড়লেন ছেলের বুকে। মায়ের মাথায় হাত বুলোতে বুলোতে সেই ছেলে বিড়বিড় করে চললেন, “দেশতকৈ মোমাই ডাঙর নহয়।” অর্থাৎ জন্মভূমি থেকে মামার স্থান বড়ো না।   ***   শীতের সকাল, ১৬৭১ সালের মার্চ মাস। এইদিকে শান্ত নিরিবিলি শীতের সকাল হয়। গ্রামের সকাল যেমন হয় আর-কি। মানুষজন কাঁধে কোদাল নিয়ে মাঠের দিকে যায়। ব্যবসায়ীরা ছোটো ছোটো ছাও নৌকায় চেপে চলে নগরে বাণিজ্য করতে। আজ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। ব্রহ্মপুত্রে দারুণ ঢেউ, ত...

প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান - তমোঘ্ন নস্কর

ছবি
  প্রতিরোধে বীর ভারত - সন্তান   তমোঘ্ন নস্কর     ত্রিংশ পর্ব : শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সদাশিব — ছত্রপতি শিবাজির ভাই!   প্রতিবার গড়ের তলায় কিছু করে সৈন্য তলিয়ে যাচ্ছে। এই দুর্গ দখল করা একরকম অসম্ভব ঠেকছে। এদিকে অল্প কিছু মালহার নিয়ে তানাজি অন্য পথ বেয়ে বেশ অনেকটা উঠে গিয়েছেন। এখন যদি তারা ওঠা না শুরু করতে পারে , তা হলে সমূহ বিপ দ। হঠাৎই সূর্যের মনে পড়ল যশোবন্তী র কথা। তাড়াতাড়ি যশোবন্তীকে জঙ্গলের পথে ছেড়ে দি লেন। যশোবন্তী কে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ও-ই দাদাকে ঠিক খুঁজে বের করে নেবে। যশোবন্তী কে পেয়ে গেলে বাকি পথটা দাদা ঠিক করে নেবে নই — একটা আশার আলো দেখলেন সূর্য। নতুন করে চড়া আরম্ভ করল তারা। এইবার তাদের পারতেই হবে।   *** নবম মাঘশুদ্ধের চন্দ্র-আলোকিত রাত্রি, যশোবন্তী দড়ি বেঁধে বেয়ে চলল প্রাচীন দুর্গের পিচ্ছল পাথুরে গাত্রদেশ। ৬০ ফুট খাড়াই দেয়াল বেয়ে ঝুপ করে নামল নীচে । দড়িতে টান পড়তেই নিজ থেকে বুঝতে পারলেন তিনি, যশোবন্তী পৌঁছে গেছে। দে বী ভবানীকে স্মরণ করে দড়ি ধরে একবার ঝাঁকিয়ে নিলেন তিনি। এইবার তার ও...