প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান - তমোঘ্ন নস্কর

 

প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান

 

তমোঘ্ন নস্কর

 

 

ত্রিংশ পর্ব: শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সদাশিবছত্রপতি শিবাজির ভাই!

 

প্রতিবার গড়ের তলায় কিছু করে সৈন্য তলিয়ে যাচ্ছে। এই দুর্গ দখল করা একরকম অসম্ভব ঠেকছে। এদিকে অল্প কিছু মালহার নিয়ে তানাজি অন্য পথ বেয়ে বেশ অনেকটা উঠে গিয়েছেন। এখন যদি তারা ওঠা না শুরু করতে পারে, তা হলে সমূহ বিপদ।

হঠাৎই সূর্যের মনে পড়ল যশোবন্তীর কথা। তাড়াতাড়ি যশোবন্তীকে জঙ্গলের পথে ছেড়ে দিলেন। যশোবন্তীকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ও-ই দাদাকে ঠিক খুঁজে বের করে নেবে। যশোবন্তীকে পেয়ে গেলে বাকি পথটা দাদা ঠিক করে নেবেনই— একটা আশার আলো দেখলেন সূর্য।

নতুন করে চড়া আরম্ভ করল তারা। এইবার তাদের পারতেই হবে।

 

***

নবম মাঘশুদ্ধের চন্দ্র-আলোকিত রাত্রি, যশোবন্তী দড়ি বেঁধে বেয়ে চলল প্রাচীন দুর্গের পিচ্ছল পাথুরে গাত্রদেশ। ৬০ ফুট খাড়াই দেয়াল বেয়ে ঝুপ করে নামল নীচে

দড়িতে টান পড়তেই নিজ থেকে বুঝতে পারলেন তিনি, যশোবন্তী পৌঁছে গেছে। দেবী ভবানীকে স্মরণ করে দড়ি ধরে একবার ঝাঁকিয়ে নিলেন তিনি। এইবার তার ওঠার পালা।

 

***

প্রেক্ষাপট

 

মুঘল শাসনের গৌরবযুগের অন্তিম লগ্নে ধুমকেতুর মতো আবির্ভাব ঘটল এক বীরের। তাঁর সঙ্গে প্রচুর সেনাদল নেই। তাঁর রসদ ভাণ্ডারে ভীষণ আগ্নেয়াস্ত্র নেই, অথচ মারাঠা প্রদেশের চাষি আর বিবদমান সর্দারদের কোনএকটা জাদুমন্ত্র বলে একত্রিত করে ফেলেছিলেন তিনি।

মুঘলদের বিশাল সেনাবহরের সামনে মুষ্টিমেয় অকুতোভয় যোদ্ধা নিয়ে ঝটিকা আক্রমণ চালিয়ে তাদেরকে নাস্তানাবুদ করে দিতেন তিনি। আদিলশাহি সুলতানের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিলেন তিনি। সুদূর দিল্লিতে বসেও বাদশাহ যেন তাঁর সিংহনাদ শুনতে পেতেন।

যুবকের পিতা একসময় আদিলশাহি দরবারে এক ভূস্বামী ছিলেন। তাঁর পুত্রের এতখানি স্পর্ধা আদিলশাহিরা সহ্য করলেন না। বারবার আক্রমণ চালালেন, আর বারবার তাদেরকে ব্যর্থ করে ছিন্নভিন্ন করে দিতে লাগলেন সেই যুবক। তাঁর মন্ত্র একটাই স্বরাজ্য অর্থাৎ নিজেদের জন্য এক টুকরো নিষ্কর মাটি।

একের-পর এক গুরুত্বপূর্ণ কেল্লাগুলি হাতছাড়া হচ্ছিল তাদের। অবস্থা এমন দাঁড়াল যে, সেই বাগীকে সামাল দেওয়ার জন্য মুঘল দরবারে হাতে জোর করে দাঁড়ালেন তারা। দিগ্‌বিজয়ী মুঘল সেনাপতি খোদ মির্জা রাজা জয়সিংহকে পাঠাতে হল দাক্ষিণাত্যে।

জয়সিংহ এবং তাঁর সঙ্গে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো অগণিত সৈন্যবাহিনী এইবার খানিকটা কাবু করে ফেলল তাঁকে। বেশ কয়েকটি পরাজয়ের পর পুরন্দরের চুক্তি করতে বাধ্য হলেন তিনি। সেই চুক্তিতে হস্তান্তর করতে হল কোন্ডানা দুর্গ।

কোন্ডানা দুর্গ সহ্যাদ্রি পর্বতমালার একেবারে শীর্ষে অবস্থিত। ফলত এই অবস্থান থেকে সমতলে অবস্থিত বাকি তিনটি দুর্গ তোরনা, রায়গড় এবং পুরন্দরের উপর নজর রাখা যেত। এবং চারটি দুর্গকে একই সূত্রে বেঁধে কঠিন সামরিক ব্যূহ রচনা করা যেত। দ্বিতীয়ত পুনা নগরীর বাণিজ্য পথের উপর সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব রাখতে গেলে দুর্গটি মোক্ষম।

১৬৪৭ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ১৭ বছর বয়সে এই দুর্গটিকে দখল করেন শিবাজি রাজে ভোঁসলে। এই দুর্গ দখলের মূল কান্ডারি ছিলেন, তাঁর অন্যতম অভিভাবক দাদাজি কোন্ডদেব তাই এই দুর্গের নাম রাখা হয়েছিল কোন্ডানা। পুরন্দর চুক্তির পর প্রথমেই জয়সিংহের নজর গেল কোন্ডানা দুর্গের উপর। তিনি শর্ত দিলেন তাকে কোন্ডানা দিয়ে দিতে হবে।

একে একে সমস্ত দুর্গগুলি পুনরুদ্ধার করছিলেন তিনি। কিন্তু অবস্থানগত দুর্ভেদ্যতার কারণে কোন্ডানা দখল করতে বারবার ব্যর্থ হন। ১৬৭০ খ্রিস্টাব্দের মাঘ মাসে (৪ ফেব্রুয়ারি) নাগাদ তিনি পুনরায় কোন্ডানা দখলের চেষ্টা করেন। আমাদের আজকের কাহিনি সেই বীরত্বের কথাই বলে।

এই দুর্গ দখলের কিছুকাল পর রাজ্যাভিষেক হয় শিবাজি রাজে ভোঁসলে’র। তিনি হলেন ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ। আমরা ছত্রপতির কথা সবাই জানি। কিন্তু আজকে যার কথা বলছি তিনি শিবাজি মহারাজের ভ্রাতাস্বরূপ। শিবাজি নিজে তাঁকে ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন এবং সমাদর করতেন। তিনি তানাজি মালসুরে।

 

***

দুর্গের প্রাকারে উঠে যশোবন্তীকে নিজের মশক থেকে জল পান করালেন তানাজি। তার পিঠের অত মোটা চামড়াও ঘষে রক্তাক্ত হয়েছে। কিন্তু  প্রাণীটা দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে গেছে। অবশ্য তানাজির পুরো ওজনটা তাকে সহ্য করতে হয়নি। যশোবন্তীকে প্রশিক্ষিত করা হয়েছিল স্তম্ভ চিহ্ন দিয়ে; স্তম্ভ দেখলে তার চারদিকে দুই পাক ঘুরে নিত সে। দড়িও দুই প্যাঁচ হত। মুঘলদের পতাকা দণ্ড বরাবর তাই যশোবন্তীকে তুলে ছিল, যাতে উঠেই স্তম্ভ পায়। সব কিছু তার হিসাব মতোই হয়েছে। হয়তো মা ভবানী এটাই চান।

সহ্যাদ্রির (পশ্চিমঘাট) জঙ্গল থেকে খুঁজে খুঁজে এই গোসাপদের (মারাঠি নাম ঘোরপাড়/Indian monitor lizard) ধরে নিয়ে এসেছিলেন শিবাজি। তারপর সুদীর্ঘ কাল তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এদের আয়ুও বেশ বেশি। এই যে যশোবন্তীর বয়সই চৌদ্দ বছর। মৃদু পিঠ চাপড়ে দুটো খরগোশ ছুঁড়ে দিলেন তার দিকে।

কষে দড়িটা বেঁধে জোরে ঝাঁকানি দিলেন তিনি। দড়ি ধরে ধীরে ধীরে উঠে আসতে লাগল মালওয়ার দল।

কল্যাদরজার প্রহরীরা যখন যমদূতের মতো মারাঠা মালওয়াদের তাদের দিকে এগিয়ে আসতে দেখল, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেকচুকাটা হয়ে গেল তারা। কল্যাণঘাটের নীচে একেবারে একটেরে একটি দরজা। উপরে দুর্গের মূল অন্দরে যতক্ষণে আওয়াজ পৌঁছেছে, ততক্ষণে কল্যাণ দরজা দিয়ে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়েছে তানাজি এবং তাঁর ভাই সূর্যজির মালওয়া দল। তেল ঢাকা বা পাথর গড়ানোর অবস্থা নেই

 

 

***

কল্যাণঘাটের দরজার সুড়ঙ্গের পথটি চিরকাল সুপ্ত ছিল। এই দুর্গ দখলের বহু আগে থেকে এই পথ ধরে স্থানীয় কলি জেলেরা সেই পথ ধরে কেল্লায় যাতায়াত করত। মূলত কেল্লার বাজারে যেত তারা, দিনশেষে মূল ফটক বন্ধ হয়ে গেলে। এই পথেই তারা ফিরে আসত। কিন্তু কেল্লার দায়িত্ব মুঘল হস্তে যাওয়ার পর এই পথটি অব্যবহৃত হয়ে পড়েছিল।

দীর্ঘদিন পর নিজের কলি ভাইদের সঙ্গে  সম্পর্ক স্থাপন করে পথটি পুনরুদ্ধার করেছিলেন তানাজি। সমুদ্রের একেবারে তীর থেকে সেই পথ দিয়ে সোজাসুজি কেল্লার পাদপ্রান্তে পৌঁছোনো যেত।

যেখান থেকে কেল্লার প্রথম দেওয়াল বা দরজা কল্যাণঘাট মাত্র ষাট ফুট উপরে। সংকীর্ণ পথ বেয়ে একসঙ্গে বেশি সৈন্য যাওয়া অসম্ভব এবং সামান্যতম ভুল-ত্রুটি হলে ধরা পড়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। তাই অল্প কিছু মালওয়া নিয়ে তানাজি এগিয়ে গিয়েছিলেন। আর সিংহভাগ সৈন্য নিয়ে খাড়া পর্বত বেয়ে, জঙ্গলের আড়াল নিয়ে উঠে এসেছিলেন তাঁর ভাই সূর্য মালুসারে।

 

***

ক্লান্ত অবসন্ন দেহে এলিয়ে পড়লেন তানাজি। যতটা সহজ ভাবা হয়েছিল ততটা সহজ হয়নিপ্রাথমিক ধাক্কাটা কাটিয়ে নিয়েই পাঁচ হাজার সৈন্যের সে-দলটা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তাঁদের উপরপ্রতিপক্ষ মাত্র তিনশত মারাঠা। অর্থাৎ জনপ্রতি ষোলোজন। একজনকে ষোলোজনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

কেল্লাদার উদয়ভান রাঠোর তৈরিই ছিলেন। যে -কোনও সময় আক্রমণের জন্য নিজেকে শানিয়ে রাখতেন তিনি।

এই রাজপুত বীরের সঙ্গে মহড়া বড়ো সাধারছিল না। মির্জা রাজা জয়সিংহের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ছিলেন এই উদয়ভান রাঠোর। সেইখান থেকে আওরঙ্গজেবের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হয়েছিলেন তিনি। শোনা যায়, পঁচিশজন খোজা প্রহরী যা করতে পারত না তা করার ক্ষমতা রাখতেন তিনি, তাই তাঁকেই এই কেল্লার অধিকার দেওয়া হয়েছিল।

আর ভাবতে পারছিলেন না তানাজি, বারবার নিজের গ্রামের কথা মনে আসছিল। নীচের জঙ্গলে উল্লসিত মালওয়ারা আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। এই আগুন দেখে শিবাজি বুঝবেন কেল্লা দখল হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে রওনা হয়ে যাবেন। কিন্তু রায়গড় থেকে শিবাজির আসা অবধি কি তিনি অপেক্ষা করতে পারবেন? ভলকে ভলকে রক্ত বেরিয়ে আসছে তাঁর ক্ষতস্থানগুলি দিয়ে।

কেল্লা হয়তো দখল করেছেন, কিন্তু উদয়ভানের কাছে সম্মুখ যুদ্ধে পরাস্ত হয়েছেন। কোন্ডাজি সঠিক সময়ে আঘাত না করলে তিনি একা উদয়ভানকে সামলাতে পারতেন না। এতক্ষণে উদয়ভানের জায়গায় তাঁর মাথাটা গড়াগড়ি খেত। চোখ বুজে আসছিল তানাজির। ওই তো যশোবন্তী এগিয়ে আসছে তাঁর দিকে। শেষবারের মতো যশোবন্তীর পিঠে হাত বোলানোর জন্য হাতটা তুলতে গেলেন। 

পালকিতে করে তার আনা হয়েছিল রায়গড়ে। ভাতৃসম বাল্যবন্ধুর মৃতদেহ দেখে নাকি সেদিন সিংহ-হৃদয় শিবাজি রাজেও ডুকরে কেঁদে উঠে বলেছিলেন, “গড় আলা পন সিংহ গেলা,” দুর্গ উদ্ধার করা গেল কিন্তু আমার সিংহ চলে গেল।

ইতিহাস এই সমস্ত বীরেদের নিয়ে বড়ো অল্প কথা কয়। মারাঠা বলতেই আমরা শিবাজি, বালাজি, ধুন্দুপন্থ এবং বর্গী— এর বাইরে বিশেষ কিছু শিখিনি। কিন্তু অগণিত মারাঠা সর্দার রয়েছেন, মারাঠা বীর রয়েছেন যাঁদের কথা আমরা জানি না। তাঁরা কেউ-ই পরবর্তীকালের পথভ্রষ্ট বর্গী নয়, তাঁরা বীর যোদ্ধা, নিজের মাটির জন্য ছিলেন বলি প্রদত্ত।

আসল কথাটা এবার বলি, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ-এর থেকে মাত্র চার বছরের বড়ো ছিলেন তানাজি মালুসারে। শিবাজির একদম প্রথম দিনের যে-সমস্ত বন্ধুরা ছিলেন, যাদেরকে নিয়ে তিনি স্বরাজ্যের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাদের মধ্যে তানাজি অন্যতম। বালক শিবাজি তাঁকে নিজের ভাই হিসেবে গণ্য করতেন। এবং মাতা জিজাবাই-তাঁকে নিজের সন্তান হিসেবে দেখতেন। অনেকেই বলেন তানাজিকে ছায়া করেই কিংবদন্তি সাহিত্যিক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় সদাশিব চরিত্রটিকে গড়েছিলেন।

___________________________________________________________________________


প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান ধারাবাহিকটির আগের পর্বগুলি পড়ুন:

প্রথম পর্ব:  https://blogs.antareep.in/2025/06/blog-post.html

দ্বিতীয় পর্ব:  https://blogs.antareep.in/2025/06/blog-post_13.html

তৃতীয় পর্ব:  https://blogs.antareep.in/2025/06/blog-post_20.html

চতুর্থ পর্ব:  https://blogs.antareep.in/2025/06/blog-post_24.html

পঞ্চম পর্ব:  https://blogs.antareep.in/2025/06/blog-post_24.html

ষষ্ঠ পর্ব:  https://blogs.antareep.in/2025/07/blog-post.html 

সপ্তম পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/07/blog-post_12.html

অষ্টম পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/07/blog-post_19.html

নবম পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/07/blog-post_27.html

দশম পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/07/blog-post_27.html

একাদশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/08/blog-post_88.html

দ্বাদশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/08/blog-post_15.html

ত্রয়োদশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/08/blog-post_24.html

চতুর্দশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/08/blog-post_30.html

পঞ্চদশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/09/blog-post.html

ষোড়শ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/09/blog-post_13.html

সপ্তদশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/09/blog-post_20.html

অষ্টাদশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/10/blog-post_11.html

ঊনবিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/10/blog-post_25.html

বিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/11/blog-post.html

একবিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/11/blog-post_8.html 

দ্বাবিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/11/blog-post_16.html

ত্রয়োবিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/11/blog-post_22.html

চতুর্বিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/11/blog-post_29.html

পঞ্চবিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/12/blog-post.html

ষট্‌বিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/12/blog-post_14.html

সপ্তবিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/12/blog-post_22.html

অষ্টাবিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/12/blog-post_28.html

ঊনত্রিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2026/01/blog-post.html

 

 

মন্তব্যসমূহ