প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান - তমোঘ্ন নস্কর
প্রতিরোধে বীর ভারত - সন্তান তমোঘ্ন নস্কর সপ্তত্রিংশ পর্ব : কালরাত্রির প্রহর ১৩০১ সন , এই ক’দিন তেতে উঠেছিল আবহাওয়া ... আর আজকে যেন ভাপ উঠছে। এই এত রাত্তিরেও দুর্গের পাথুরে মেঝের গরম তাপ জুতোর চামড়া ফুঁড়ে পায়ের চামড়াকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। দুর্গের ভিতরে তখন শ্মশানের নিস্তব্ধতা। ক্ষুধায়-তৃষ্ণায় কাতর মানুষগুলো ঝিমিয়ে আছে , সঞ্চয় করছে আগামীর শক্তি! খিলজির বাহিনী নীচে ওঁত পেতে আছে ক্ষুধার্ত হায়েনার মতো। রুদ্রপ্রতাপ দাঁড়িয়ে ছিল পশ্চিমের বুরুজে , যেখান থেকে নীচে সুলতানি শিবিরের মশালগুলোকে জোনাকির মতো দেখাচ্ছিল। চারদিন ধরে ওর পেটে ভালো করে খাবার পড়েনি। তৃষ্ণায় গলাটা ফেটে চৌচির হয়েছিল , মনে হচ্ছিল কেউ যেন তপ্ত সীসা ঢেলে দিয়েছে কণ্ঠনালিতে। কিন্তু আজ রাণা নিজের খাবার থেকে ওকে খাবার দিয়েছে। বলেছেন , “ শক্তি ধর রুদ্র , আজকের পর আর কষ্ট পেতে হবে না। পশ্চিম বুরুজের ওই সুড়ঙ্গের মুখটা তুই ছাড়া কেউ আটকাতে পারবে না। তাই আমার ভাগের খাবার দিলুম। আমার চেয়ে তোর-ই বেশি দরকার।” ...