পোস্টগুলি

প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান - তমোঘ্ন নস্কর

ছবি
  প্রতিরোধে বীর ভারত - সন্তান   তমোঘ্ন নস্কর     পর্ব ৭ : বেলওয়াড়ি বাঘিনী   চতুর্দিক থেকে ঘিরে ধরেছে অস্ত্রধারী সেনানীরা। তাদের লাল পাগড়িতে রানির ছোট্ট শরীরখানা দেখতে পাওয়া যায় না। তবুও দু’হাতেই নিজের খণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন রানি।   মেয়েরা যেখানে লড়াই চালাচ্ছেন, সেখানে তিনি নিজেকে সমর্পণ করতে পারেন না। হঠাৎ করেই ভীষণ সাড়া লেগে গেল যেন... ক্লান্ত , রক্তাক্ত , ঘর্মাক্ত রানি নিজের খণ্ডের উপরে ভর দিয়ে তাকিয়ে রইলেন সম্মুখে … ভ্রু-পল্লবের উপরে অনেকখানি কেটে গেছে। রক্ত জমাট বেঁধে ঝাপসা করে দিয়েছে দৃষ্টি। সেই ঝাপসা দৃষ্টিতেই দেখলেন, কেউ একজন এগিয়ে আসছে। তার কণ্ঠে কড়ির মালা , কপালে তারই মতো ত্রিপুণ্ড্রক। একের পর এক সেনারা সরে গিয়ে প্রান্তর ফাঁকা করে দিচ্ছে সসম্ভ্রমে। কিন্তু রানি মাথা তুলে রইলেন। সেই মানুষটা কোমর থেকে বের করলেন তরবারি। রানি স্মরণ করলেন বীরভদ্রকে , “ ‏ হে মহাদেব , আজই তবে আমার শেষ। তুমি আমায় ক্ষমা করো ঈশ্বরপ্রভু। তোমার প্রদেশ আমি রক্ষা করতে পারিনি।” কিন্তু কী আশ্চর্য! মানুষটা এসে তাঁর সমুখে নতজানু হয়ে বললেন, “মা!” ...

প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান - তমোঘ্ন নস্কর

ছবি
  প্রতিরোধে বীর ভারত - সন্তান   তমোঘ্ন নস্কর     পর্ব ৬: মশালা রানি   নোনা হাওয়ায় শ্বাস টানলেন তিনি। এই তো , এই বাতাস তাঁর মাতৃভূমির বাতাস। তিনি মনে মনে ঠিক জানতেন , এই বাতাস কখনও তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না। ঠিক তা-ই হল। বাতাস পড়ে গিয়ে সম্পূর্ণ অন্য দিক থেকে বওয়া শুরু করল।   ছোটো ছোটো ছিপ নৌকা থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে তির এসে পড়তে লাগল। এতক্ষণ বাতাসের বিপরীত গতির জন্য তিরগুলি এসে পৌঁছোতে পারছিল না ৷ মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পোর্তুগিজদের ভারী জাহাজগুলো। অঁও-অঁও , বাতাস কাঁপিয়ে ভেসে আসে শব্দ মারাক্কারের , সমুদ্রহস্তী মারাক্কার আসছে। কুনিয়ালি মারাক্কার ভারতবর্ষের নৌযুদ্ধের অন্যতম স্থপতি , আরব সাগরে ত্রাসস্বরূপ... তার মানে , স্বয়ং জামোরিন তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। আর তাঁকে পায় কে ? দ্বিগুণ উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়লেন রানি। সূর্য চুম্বন করল তাঁর তরবারির ডগা। ঝনঝনানি উঠল অসির... ***   বৃষস্কন্ধ অজর মানুষটি নিজের কুঠারটি ছুড়ে দিলেন সমুদ্রের দিকে। সমুদ্রের মধ্যে ওই পর্বতে পৌঁছোতে হলে পথ গড়তে হবে যে... ছুড়ে দিলেন আপনার পরশ...