পোস্টগুলি

জুলাই, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান - তমোঘ্ন নস্কর

ছবি
  প্রতিরোধে বীর ভারত - সন্তান   তমোঘ্ন নস্কর     পর্ব ৯ : জয়ের পরাজয়     সন্ধ্যার আকাশটা লাল হয়ে আছে। যেন আসন্ন সন্ধ্যার আশঙ্কায় গোটা দিন মুখ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছে … শেষ বারের মতো প্রাসাদশীর্ষে দাঁড়িয়ে নিজের রাজধানীকে দেখে নিলেন জয়পাল। ধীর , মৃদু পদক্ষেপে অন্দর থেকে কাছারি যাওয়ার অলিন্দে হেঁটে চললেন। লাহোরের উপকণ্ঠে এই সুবিশাল প্রাসাদ অন্য দিন মুখর থাকত ব্যস্ততা আর মশালের আলোয়। আজ সব আঁধার। কোনায় কোনায় চিকের আড়ালে ঘাপটি মেরে আছে নীরবতা। চলতে চলতে ভ্রম হয় জয়পালের। ঘাড়ের কাছে কে যেন দীর্ঘশ্বাস ফেলল! তারপর মনে পড়ল , গত রাতের দুঃস্বপ্নের কথা। তাঁর পূর্বপুরুষেরা কাঁদছেন , হয়তো তাঁদেরই দীর্ঘশ্বাস বয়ে এসেছে এত দূর! দ্রুত পা চালালেন তিনি … ভেবেছিলেন, খোলা আঙিনায় এসে একটুখানি শ্বাস নিতে পারবেন; কিন্তু কই, সেখানেও কেবল বিষণ্ণ বাতাস আর পরাজয়ের ভার।   ***   শেষ বার সিংহাসনে বসতে গেলেন জয়পাল। তারপর কী মনে করে সিংহাসনে বসলেন না। সিংহাসন তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সিংহাসনের সামনে মাটিতেই বসে পড়লেন তিনি। নগ্নপদ , নি...

প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান - তমোঘ্ন নস্কর

ছবি
  প্রতিরোধে বীর ভারত - সন্তান   তমোঘ্ন নস্কর     পর্ব ৮: কাশ্মীরি কোটা!     ১৩৩৮-এর এক শীতার্ত ভোর   অচলা সৈন্যবাহিনীকে থামতে আদেশ দিলেন। তাঁর গুপ্তচর খবর দিয়েছে , উদয়ন দেব পাহাড় থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। সম্মুখে যারা আছে , তারা কেউই তাকে আটকাতে পারবে না। দুই দলের মাঝখানে থমকে দাঁড়ায় সময়। এই দিকে দুর্দান্ত তাতার সেনাপতি অচলা আর অন্য দিকে এক নারী। হাসি খেলে যায় অচলার ঠোঁটে … সরুপথের চড়া খাড়াইয়ে নীচ দিয়ে সগর্জনে প্রবাহিত হচ্ছে দুর্বার স্রোতস্বিনী , বিস্তা। খট … খট … খট … ধীর মন্থর গতিতে অতি সন্তর্পণে এগিয়ে আসতে লাগল একটার পর একটা পাহাড়ি ঘোড়া। তারা জানতেও পারল না তাদের মাথার উপর বরফ ধবল পাহাড়ের গা বেয়ে ওঠা ধোঁয়া কুয়াশায় গা ঢেকে পাহাড়ের খাঁজে , ঢালু পথের কিনারায় জমে আছে ওরা!   কয়েক মুহূর্ত পর   সেই পাহাড়ি পথটা জুড়ে এখন কেবলই ধ্বংস-চিহ্ন। রক্তে রঞ্জিত পাথুরে মাটি , ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে আছে। তাতার সৈনিকের দেহের উপর উল্লাসে ভোজসভা বসিয়েছে চিল-শকুনের দল। সওয়ারিহীন ঘোড়ার দল অবাক বিস্ময়ে নিজেদের মুখ...