পোস্টগুলি

প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান - তমোঘ্ন নস্কর

ছবি
  প্রতিরোধে বীর ভারত - সন্তান   তমোঘ্ন নস্কর     পর্ব ১১ : বীর হাম্বীর   জঙ্গলের মাথার উপর চাঁদোয়ার মতো নেমে এসেছে মস্ত আকাশটা। টান টান নয় , ঈষৎ ঝোলা মেঘ জমেছে তাতে। গড় বি ষ্ণু পুরের মানুষের মনেও মেঘ জমেছে ; মেঘ মাত্রই ছোঁয়াচে … তারা সবাই আজ অপেক্ষা করছে মা মৃন্ময়ীর মন্দির - সম্মুখে। ঢিলপতন নীরবতা , ভিতর থেকে পুরোহিতের গুরুগম্ভীর গলার আওয়াজে গমগম করছে বিশাল চত্বর। গর্ভগৃহের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা শালপ্রাংশু ব্যূঢ়োরস্ক পরমবলশালী যুবকটিও ঠায় দাঁড়িয়ে। হাতে একটি বিশাল খড়্গ তুলে ধরে আছে আদেশের অপেক্ষায়। পুরোহিতের ইশারা মাত্রে খড়্গটি নেমে এল রজ্জুবন্ধ মহিষের ঘাড়ের উপর … জয়ধ্বনি উঠল , “ জয় মা মৃন্ময়ীর জয় … জয় মা মৃন্ময়ীর জয়। ” রুধিরাপ্লুত কলেবরে যুবরাজ এগিয়ে এলেন জনতার দিকে। তাদের চোখে তিনি ভয় লক্ষ করলেন। মায়ের জয়ধ্বনির মধ্যেও স্বতঃস্ফূর্ততা নেই। মু্হূর্তের মধ্যে কঠিন হয়ে গেল তাঁর চোয়াল। এটা কাটাতে হবে। যুদ্ধের আগেই মরে কাপুরুষেরা … বজ্রকঠিন কণ্ঠে মন্দির সোপানে দাঁড়িয়ে যুবরাজ বললেন , “ ‏ হে মল্ল রাজ্যের অধিবাসীগণ , আপনাদের ভয় অ...

প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান - তমোঘ্ন নস্কর

ছবি
  প্রতিরোধে বীর ভারত - সন্তান   তমোঘ্ন নস্কর     পর্ব ১০ : খাপ পঞ্চায়েত   সন্ধে নামছিল ধীরে ধীরে। নগর দিল্লি লালে লাল, নিস্তব্ধ নিথর দিল্লি শহরের শবের উপর বসে একতরফা উল্লাস করছিল ওরা। গোধূলির রং লেগেছিল বটগাছের পাতায়, নীলচে সোনালি আলো। অন্যদিন এই আলোয় মশাল চুবিয়ে গোটা দিল্লি নগরে রোশনাই উঠত কিন্তু আজ কাক আর শকুনের বিরক্তিকর কর্কশ চিৎকার। যেন তারা বলতে চায়, বড্ড তাড়াতাড়ি বেলা ফুরিয়ে গেল। এত এত খাবার আবার বাসি খেতে হবে কালকে … যমুনার পাড়ে গা মিশিয়ে বসেছিল ওরা। নদীর বুক থেকে ঠান্ডা হাওয়া মেখে যেই কুয়াশা উঠতে শুরু করেছিল। ওরা উঠে এল। এক, দুই, তিন, শত, সহস্র … আর অমনি দারুণ একটা উত্তুরে হাওয়ায় সে কুয়াশায় ঘিরে ফেলল চতুর্দিক।   ***   ছাউনিতে নিশ্চিন্ত আরামে পানভোজন করছিল তুর্কি সেনাদল। না, তারা এত গা ছাড়া দেয় না। তারা যোদ্ধার জাত। রণক্ষেত্রে তারা ঘোড়ায় ঘুমোয়। কিন্তু এদেশের মানুষজন যেভাবে ভেঙে দুমড়ে গলে যাচ্ছে, তাতে করে বিশেষ কিছু করতে পারবে না। ঢুলু ঢুলু নয়নে পানপাত্র হাতে পিছন ফিরতেই যাচ্ছিল কেবল। তার আগেই ...

প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান - তমোঘ্ন নস্কর

ছবি
  প্রতিরোধে বীর ভারত - সন্তান   তমোঘ্ন নস্কর     পর্ব ৯ : জয়ের পরাজয়     সন্ধ্যার আকাশটা লাল হয়ে আছে। যেন আসন্ন সন্ধ্যার আশঙ্কায় গোটা দিন মুখ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছে … শেষ বারের মতো প্রাসাদশীর্ষে দাঁড়িয়ে নিজের রাজধানীকে দেখে নিলেন জয়পাল। ধীর , মৃদু পদক্ষেপে অন্দর থেকে কাছারি যাওয়ার অলিন্দে হেঁটে চললেন। লাহোরের উপকণ্ঠে এই সুবিশাল প্রাসাদ অন্য দিন মুখর থাকত ব্যস্ততা আর মশালের আলোয়। আজ সব আঁধার। কোনায় কোনায় চিকের আড়ালে ঘাপটি মেরে আছে নীরবতা। চলতে চলতে ভ্রম হয় জয়পালের। ঘাড়ের কাছে কে যেন দীর্ঘশ্বাস ফেলল! তারপর মনে পড়ল , গত রাতের দুঃস্বপ্নের কথা। তাঁর পূর্বপুরুষেরা কাঁদছেন , হয়তো তাঁদেরই দীর্ঘশ্বাস বয়ে এসেছে এত দূর! দ্রুত পা চালালেন তিনি … ভেবেছিলেন, খোলা আঙিনায় এসে একটুখানি শ্বাস নিতে পারবেন; কিন্তু কই, সেখানেও কেবল বিষণ্ণ বাতাস আর পরাজয়ের ভার।   ***   শেষ বার সিংহাসনে বসতে গেলেন জয়পাল। তারপর কী মনে করে সিংহাসনে বসলেন না। সিংহাসন তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সিংহাসনের সামনে মাটিতেই বসে পড়লেন তিনি। নগ্নপদ , নি...