ওঁর মতো সদা হাস্যময়, মিষ্টভাষী ও মধুর ব্যক্তিত্বর সঙ্গে মতবিরোধ কখনও হয়নি - সমীর গোস্বামী

 

বিখ্যাত লেখক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়, যাঁকে আমরা সকলে শংকর বলে চিনি, আজ প্রয়াত হলেন। তাঁর লেখার সঙ্গে পরিচিত নন, এরকম বাঙালি মেলা ভার। 

আমার সৌভাগ্য, ওই মাপের একজন লেখকের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল। সেই সুযোগ ঘটেছিল কয়েকটি কারণে। 

আমি কর্মজীবনের বেশিরভাগটাই কাজ করেছি পূর্ব রেলওয়ের জনসংযোগ দফতরে। শংকর-এরও (ওঁর পছন্দের নাম বলেই উল্লেখ করলাম) কর্মজীবনের প্রথমভাগটা কেটেছে একই অফিসে। অর্থাৎ পূর্ব রেলের জনসংযোগ দফতরেই। পরে বিভিন্ন কর্মস্থল ঘুরে সিইএসসি-র জনসংযোগের প্রধান কর্তা হলেও, রেলের সহকর্মীদের কথা ভোলেননি। ওঁর সঙ্গে দেখা হলে নাম ধরে ধরে সকলের কথা জিজ্ঞেস করতেন। নিজেও রেলের চাকরির অনেক গল্প করতেন। রেলের হাউস জার্নালে ওঁর তখনকার লেখাগুলো পড়ে মুগ্ধ হতাম। 

উনি নিজেই ফোন করে সিইএসসি-র প্রধান কার্যালয়ে অনেকবার ডাকতেন। বলতেন, “এসো না, একটু গল্প করি।” ওঁর মতো উঁচু মাপের লেখকের সান্নিধ্য পাওয়ার আশায় আর সুস্বাদু ফিস্‌ ফ্রাই খাওয়ার লোভে আমিও চলে যেতাম। কয়েকবার এমন হওয়ার পরেই উনি বুঝে গিয়েছিলেন আমি ফিস্‌ ফ্রাই খেতে ভালোবাসি, আর সেই কারণেই বারবার তাঁর কাছে যাই। 

ওঁর সঙ্গে পরিচিতির আর-একটা কারণ ছিল। দেশের সব জনসংযোগ অফিসারদের পাবলিক রিলেশন্‌স অফ ইন্ডিয়া নামে একটা সংস্থা আছে। যেহেতু ভোট হয়, সেহেতু সদস্যরা দুটো দলে বিভক্ত ছিল। আমি ছিলাম ওঁর বিরুদ্ধ শিবিরে। কিন্ত তা সত্ত্বেও, ওঁর মতো সদা হাস্যময়, মিষ্টভাষী ও মধুর ব্যক্তিত্বর সঙ্গে মতবিরোধ কখনও হয়নি।

মণিশংকর মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই।

মন্তব্যসমূহ