প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান - তমোঘ্ন নস্কর

 


প্রতিরোধে বীর ভারত
-সন্তান

 

তমোঘ্ন নস্কর

 

 

চতুর্ব্বিংশ পর্ব: বাজি

 

১০০৪ অব্দ

 

শিবি-র ছোট্ট নগরকেল্লায় দূরবিনে চোখ রাখল মূল নজরদার। রুক্ষ মরু দেশে আজ আবার ধুলোর ঝড় উঠেছে। দুশ্চিন্তায় ভ্রু-জোড়া কুঁচকে গেল তাঁর, তার মানে আবার ফিরে আসছে সেই হন্তারক নরদানবের দল। হুকুম দিলেন ঘণ্টা দাও.

বালুচিস্তানের রুক্ষ ভূমিতে ধুলোর পাক উঠেছিল এক বছর আগে। তারপর সবকিছু শান্ত হয়ে গিয়েছিল আবার। রক্তে স্নান করে ফিরে গিয়েছিল গজনির সৈন্যদল। তাদের যুদ্ধের আর কোনও উদ্দেশ্য নেই— লুণ্ঠন ধর্মান্তকরণ অথবা হত্যা মৃত্যু তাদের কাছে আমোদ। জোর করে অস্তিত্ব ছিনিয়ে নিয়ে নিজের অস্তিত্ব মানুষের উপরে চাপিয়ে দেওয়া তাদের প্রমোদ।

 

***

 

১০০৪ অব্দ

 

ঘন জঙ্গলের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। দূরে দেখা যাচ্ছে তার কেল্লার মাথায় দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যে তার পুরো কেল্লাই ভেঙে পড়ে যাবে।

শরীরে অন্ততপক্ষে ১১৮খানি ক্ষত তাঁর। প্রত্যেকটি ক্ষতর মুখ থেকেই অবিশ্রান্ত রুধির ধারা বেরিয়ে তার শরীর ভিজিয়ে দিয়েছে। শরীরও বুঝি বলছে এইবার ছেড়ে দাও। কিন্তু তিনি রাজপুত, এত সহজে ছাড়তে জানেন না। কবজির মধ্যে আর সেই জোর নেই যে খণ্ডদু’টিকে চালনা করবেন। কোমর থেকে দু’খানা কিরিচ বের করে আনেন তিনি। যতক্ষণ না দূর থেকে শিঙার ধ্বনি ভেসে আসবে ততক্ষণ অব্দি তাকে লড়ে যেতে হবে।

এক প্রহর হয়ে গেল মানুষটা একইভাবে লড়ে চলেছে। ক্রমশ বৃত্ত ছোটো হয়ে আসছে। আর কমে কমে আসছে মানুষটার প্রতিরোধ। সহসা দূর থেকে ক্ষীণ স্বরে ভেসে এল শিঙার ধ্বনি। মৃদু হাসলেন তিনি। তারপর কিরিচটিকে বাঁচিয়ে নিজহস্তে ছিন্ন করলেন নিজের কণ্ঠমূল। এত দ্রুত ঘটে গেল ঘটনাটা যে স্তম্ভিত হয়ে রইল তাকে ঘিরে থাকা গজনির সৈন্যদল।

ভাবছেন, আমি কার কথা বলছি? আসুন তবে একটু ইতিহাসের পথ হাঁটি

 

***

 

গজনির সুলতান মাহমুদ ৯৯৮ অব্দে সিংহাসনের দায়িত্ব নেওয়া থেকে বুভুক্ষু ষাঁড়ের ন্যায় আক্রমণ চালিয়ে গিয়েছেন।

আমাদের ভারতভূমির উদ্দেশে তার প্রথম অভিযান ১০০০ অব্দে। রাজা আনন্দ পাল সেই সময় খানিকটা বিপর্যস্ত হয়ে তাঁর সঙ্গে সাময়িক চুক্তিতে আবদ্ধ হতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু নিজের স্বাধীনতা সবার কাছেই বড়ো প্রিয়। তাই শক্তি সঞ্চয় করে তিনি পুনরায় আক্রমণ করেছিলেন গজনির সুলতানকে।

কিন্তু এ কথা অনস্বীকার্য— গজনির সুলতান দিনের পর দিন নিজেকে কেবল অস্ত্র-চিন্তাতেই নিবদ্ধ করে গিয়েছিলেন। রাজ্যের শাসক বা সুশাসক হওয়া তাঁর লক্ষ্য ছিল না, তাঁর লক্ষ্য ছিল ইসলামের সেরা যোদ্ধা হওয়া। তাই যোদ্ধা হিসেবে তিনি যে কারওর কাছেই অপ্রতিরোধ্য। ফলস্বরূপ, ১০০১ অব্দে পেশোয়ার প্রান্তরে ঘোরতর সংগ্রামে নিহত হন রাজা আনন্দ পাল। এর সঙ্গে সঙ্গেই খুলে গেল ভারতে প্রবেশ করার দরজাটি।

মাহমুদ চেয়েছিলেন সঙ্গে সঙ্গেই ভারতবর্ষে প্রবেশ করে তাকে তছনছ করে দিতে। কিন্তু সাফারিদের সঙ্গে তাঁর ক্রমাগত জড়িয়ে পড়া, স্বজাতি-সংগ্রাম বারবার তাঁর পিছুটান ছিল। দু’টি বছর ক্রমাগত সেই আক্রমণকে প্রতিহত করতেই লেগে গেল।

১০০৪ অব্দে বালুচিস্তান হয়ে তিনি আবার এসে দাঁড়ালেন ভারতবর্ষের প্রান্তরে। সিন্ধু নদীর একটি শাখা টপকে তিনি ভাটিয়া প্রদেশে এসে নিজের শিবির গড়লেন। সেখানে তখনও রাজত্ব করে চলেছেন রাজপুত বংশের এক হিন্দু রাজা, বাজি রায়।

এই বাজি রায়কে উৎখাত করেই তার ভারতবর্ষ প্রবেশের দীর্ঘ লালিত স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করবেন তিনি। কিন্তু তখনও জানতে পারেননি, সেই ক্ষুদ্র রাজা তাকে এতখানি পর্যুদস্ত ও বিপর্যস্ত করবে।

 

***

 

ভাটিয়া বা ভাটির কেল্লা যথেষ্ট সুরক্ষিত কেল্লা হিসাবে সে-সময় দেখা হত। এবং সেই কারণে সেই কেল্লা জয় করার জন্য গজনির মামুদ অতখানি উৎসুক ছিলেন। কেল্লার চতুর্দিক দুই প্রস্থ গভীর পরিখা দ্বারা ঘেরা। এবং সেই পরিখা এতই গভীর ছিল যে, তাকে পার করে সহজে দুর্গে প্রবেশ করা যেত না। এই দুর্গের বৈশিষ্ট্য হল এর অফুরান ভাঁড়ার। পিছনের বনভূমি সঙ্গে সুড়ঙ্গ যোগের মাধ্যমে ভাঁড়ারটির যোগ ছিল। তার ফলে এর আগে দুর্গটি অধিগ্রহণ করার বহু চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

বাইরে শত্রু সৈন্য বছরকালের অধিক সময় ধরে দুর্গ অবরোধ করে বসে রয়েছে। ভীষণ শীতে বর্ষায় তাদের মনোবল একটু একটু করে ভাঙছে। আর দুর্গের ভিতর বসে নিরাপদ আশ্রয়ে দুর্গের সৈন্যরা ক্রমাগত তাদের দিকে পাথর আর তির বর্ষণ করে চলেছে। সেই কারণে ভাটির দুর্গ ছিল এক প্রকার অপ্রতিরোধ্য।

মাহমুদ গজনি ভেবেছিলেন রাজা বাজি রায় আক্রমণের সংবাদ পেয়ে প্রথমেই দুর্গের আড়ালে গিয়ে নিজের প্রাণ রক্ষা করবেন। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল সম্পূর্ণ অন্যরকম। তিনি দুর্গকে প্রস্তুত হতে দিয়ে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে মুখোমুখি অর্থাৎ সম্মুখসমরে মিলিত হলেন।

তিন দিন ধরে ভীষণ যুদ্ধে নাস্তানাবুদ হতে লাগল মাহমুদ গজনির বাহিনী।

 

***

অস্ত্র ও প্রকৌশল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়— রাজপুত সৈন্যদের ভীম চেহারা ও অদম্য মনোবল তাদের সব থেকে বড়ো অস্ত্র। তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ভারী অস্ত্রের ব্যবহার।

গজনির সেনাবাহিনীর মধ্যে অনেকাংশই তুর্কি যুদ্ধ ব্যবসায়ী। তাদের মূল অস্ত্র হল খাটো তরবারি এবং দ্রুতগতি। কিন্তু বিগত পাঁচ বছর ধরে একটানা সংগ্রাম করতে করতে তারাও খানিকটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল।

ভীমবপু রাজপুতদের রণকুঠার বা যুদ্ধ-হাতুড়িগুলো স্বাভাবিকভাবেই তাদের জন্য বিভীষিকা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মুখোমুখি সংগ্রামে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল গতি অর্থাৎ ক্ষিপ্রতা, কিন্তু গতি শ্লথ হয়ে গেলে তুলনামূলক ভারী অস্ত্রই সুবিধা পায়। এক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হল না।

তুর্কিরা তাদের ক্ষিপ্রতা হারিয়ে একপ্রকার ডুয়েপ লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়ে পড়েছিল। যেখানে রাজপুত-বাহিনী সংখ্যা কম হলেও খুব সহজেই ভারী অস্ত্রের জন্য তাদেরকে এভাবে চেপে ধরতে পেরেছিল।

আর-এক দিকে, বাজি রায়ের ব্যূহের বাইরের দিকে হস্তীবাহিনী ছিল না। তারা ছিল ব্যূহের মাঝে; গিঁটের সুতোর মতো একেবারে শক্ত করে ধরে রেখে ছিল ব্যূহ। যখনই বিপদ বেশি হত, পদাতিক এবং অশ্বারোহী বাহিনীরা সরে গিয়ে বাইরে বের করে দিত তাদের। এলোপাথাড়ি ভীষণ আক্রমণে তছনছ করে দিত শত্রুবাহিনী। অমনি দু’পাশ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ত বাকিরা।

এইভাবে তিন দিন তারা যুদ্ধ চালিয়ে গেল। কিন্তু স্বভাবযোদ্ধা মাহমুদ গজনির কাছে এই পদ্ধতি ধরা পড়ে যেতে বিশেষ সময় লাগল না। চতুর্থ দিন বেলা দ্বিপ্রহরে তিনি সেই হস্তীবাহিনীকে পর্যুদস্ত করলেন। ভেঙে পড়ল অবরোধ। সন্ধে নামার আগে বাজি রায়ের রাজপুত-বাহিনীর অধিকাংশই ভূমিশয্যা নিল।

 

***

 

বাজি রায় নিজের আড়াল নিলেন কেল্লায়। কেল্লা অবরোধ করলেন গজনির সেনাবাহিনী। মাহমুদ গজনি অন্যদের মতো সোজা পথে হাঁটলেন না। হস্তীর ব্যবহার তিনি ভালো জানতেন না বলে হস্তীবাহিনীকে সরাসরি যুদ্ধে ব্যবহার করতেন না। কিন্তু বিভিন্ন স্থানীয় রাজাদের আক্রমণ করে, তাদের থেকে বন্দি হস্তীদের তিনি পালন করতেন সযত্নে। এইবার নিজের এতদিন ধরে সঞ্চয় করে আসা বন্দি হাতিদের তিনি কাজে লাগালেন।

একদিকে সম্মুখভাগে তিনি দেখালেন কেল্লা অবরোধ করে রয়েছেন। অন্যদিকে গাছ কেটে এবং আশেপাশের পাহাড় থেকে পাথর কেটে জমা করতে লাগলেন। কয়েক মাসের মধ্যেই স্তূপীকৃত হল পাথর এবং কাঠ। সেই পাথর এবং কাঠ দিয়ে ভরাট করতে লাগলেন পরিখাগুলি। পরিখা সমতল হয়ে গেলে খুব সহজেই আক্রমণ করে পৌঁছে যাওয়া যাবে কেল্লার দরজায়।

আর এই যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলার আড়ালে বিশ্রাম হয়ে যাবে তার সৈন্যবাহিনীর।

যেমন ভেবেছিলেন ঘটনাটা তেমনি ঘটল। ভেঙে পড়ল দুর্গের অবরোধ। অবশ্য তার জন্যে খানিকটা তঞ্চকতা ও বিশ্বাসঘাতকতাও করতে হয়েছিল। দুর্গের ভাঁড়ার ঘরের খাবারে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিলেন রাজার অত্যন্ত বিশ্বস্ত এক সহচর পার্ষদ।

নিজের প্রাণের অধিক প্রিয় ভাটিয়ার কেল্লা ছেড়ে সেই গুপ্ত সুড়ঙ্গ পথে রাজা বাজি রায় সপরিবারে বেরিয়ে গিয়েছিলেন পিছনের জঙ্গলে। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হল না। সেই পথ বলে দিলেন সেই বিশ্বাসঘাতক পার্ষদ। সেখানেও তারা পিছু ধাওয়া করল তাঁর।

অবশ্য পালিয়ে যেতেন না বাজি রায়। তিনি কেবল তাঁর পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে চেয়েছিলেন। রাজপুত যুদ্ধক্ষেত্রে পিঠ দেখিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেয়ে মৃত্যুকেই অধিক শ্রেষ্ঠ বলে মনে করেন। রাজপুত রাজারা বুক পেতে তির নেন, পিঠ পেতে নয়।

প্রায় দুই প্রহর তিনি এই জঙ্গলের মধ্যে মুষ্টিমেয় সৈন্য নিয়ে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন গজনির সৈন্যদের সঙ্গে। তারপর যখন সংবাদ এল তাঁর পরিবার পৌঁছে গিয়েছে, তখন স্বেচ্ছায় আপনার কণ্ঠমূল ছিন্ন করে প্রাণ বিসর্জন দেন তিনি। তবুও ধরা দেননি বাজি রায়

এসব ছোটো ছোটো কথা ইতিহাস আমাদের বলে না। কিন্তু ভারতবর্ষে দাস, তুঘলক, খিলজি, সুলতান, লোদি, মোঘল বংশের গৌরবময় ইতিহাসের তলায় এমন অনেক অজানা অখ্যাত দেশীয় রাজাদের গৌরবাস্থি চাপা পড়ে রয়েছে। ভারতবাসী হিসাবে সেই কথাগুলি তুলে ধরাও আমাদের কর্তব্য।

 

 

Al-Utbi's Tarikh-i-Yamini (written around 1040 CE), which provides a firsthand account as the author's uncle served in Mahmud's court, and later histories like Firishta's Tarikh-i-Firishta.

Tarikh-i-Yamini

Utbi's work is echoed in summaries of Mahmud's 17 campaigns, confirming the route through Balochistan, Indus crossing, and Baji Rai's defeat near Multan trade routes.

Tarikh-i-Firishta

the Bhatia Kingdom invasion, heavy Rajput casualties, and spoils like 120 elephants after the fort's fall

Zain ul-Akhbar by Abu Sa'id Gardezi (c. 1040–1050s CE): Another near-contemporary Ghaznavid source referencing the Bhatia campaign, corroborating the route, battle, and outcome during Mahmud's Indian raids


___________________________________________________________________________


প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান ধারাবাহিকটির আগের পর্বগুলি পড়ুন:

প্রথম পর্ব:  https://blogs.antareep.in/2025/06/blog-post.html

দ্বিতীয় পর্ব:  https://blogs.antareep.in/2025/06/blog-post_13.html

তৃতীয় পর্ব:  https://blogs.antareep.in/2025/06/blog-post_20.html

চতুর্থ পর্ব:  https://blogs.antareep.in/2025/06/blog-post_24.html

পঞ্চম পর্ব:  https://blogs.antareep.in/2025/06/blog-post_24.html

ষষ্ঠ পর্ব:  https://blogs.antareep.in/2025/07/blog-post.html 

সপ্তম পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/07/blog-post_12.html

অষ্টম পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/07/blog-post_19.html

নবম পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/07/blog-post_27.html

দশম পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/07/blog-post_27.html

একাদশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/08/blog-post_88.html

দ্বাদশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/08/blog-post_15.html

ত্রয়োদশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/08/blog-post_24.html

চতুর্দশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/08/blog-post_30.html

পঞ্চদশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/09/blog-post.html

ষোড়শ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/09/blog-post_13.html

সপ্তদশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/09/blog-post_20.html

অষ্টাদশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/10/blog-post_11.html

ঊনবিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/10/blog-post_25.html

বিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/11/blog-post.html

একবিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/11/blog-post_8.html 

দ্বাবিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/11/blog-post_16.html

 ত্রয়োবিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/11/blog-post_22.html

 

মন্তব্যসমূহ