প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান - তমোঘ্ন নস্কর

 

প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান

 

তমোঘ্ন নস্কর

 

 

চতুঃচত্বারিংশ পর্ব: ওয়ারাঙ্গলের সিংহ

 

১৩৩৬ খ্রিস্টাব্দ। বর্ষা সবে বিদায় নিয়েছে। তেলঙ্গানার লাল মাটি তখনও ভেজা। মাটিতে অশ্বখুরের দাগ কেটে বসতে শুরু করেছে। অনুমকোণ্ডার উপকণ্ঠে একদল অশ্বারোহী নিঃশব্দে এগিয়ে চলেছে। ছোট্ট বাহিনীর মধ্যে রাজকীয় কোনও আড়ম্বর নেই। ছিপছিপে নির্মেদ বাহিনীটি দ্রুত গতিতে যাতায়াত করতে পারে। এটা মুসুনুরিদের ব্যক্তিগত বাহিনী, এখানে কোনও ভাড়াটে বা সাময়িক সৈনিক নেই। যারা আছে তারা যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী এবং বংশপরম্পরায় যুদ্ধবিদ্যাকে দেবতার মতো পুজো করে আসছে।

ওই যে সামনে যিনি, মাথায় পাগড়ি, সহস্র কাটাকুটির দাগ-সহ ইস্পাতের ঢাল আর দীর্ঘ খড়্গ যার ঘোড়ায়, উনি এই দলের নায়ক, মুসুনুরি কাপায়া নায়ক।

ওয়ারাঙ্গলের মানুষ তাঁকে বলে আন্ধ্রদেশাধীশ্বর

কিন্তু আজ তাঁর মুখে কোনও রাজকীয় অভিজ্ঞান নেই। তিনি যাচাই করতে চলেছেন এক বিশেষ সংবাদ। খবর এসেছে, উত্তর দিক থেকে মালিক মকবুলের সেনাপতি আজম খান এগিয়ে আসছে। সঙ্গে কয়েক হাজার ঘোড়সওয়ার, তুর্কি ধনুর্ধর এবং আফগান ভাড়াটে যোদ্ধা। যদি সত্যিই তা-ই হয় তা হলে তাদেরকে সরাসরি সংঘাতে আসতে হবে। কারণ পথের কাঁটাকে পথের পাশেই উপড়ে ফেলে আসতে হয়।

আর এর জন্য রণকুশল খানিক আলাদা। ওয়ারাঙ্গলের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা তালগাছ আর কালো গ্রানাইটের টিলা ভোরের আলোয় যেন প্রাচীন কোনও দৈত্যের পিঠের মতো দেখায়। এই পিঠের আড়ালেই তাঁরা আড়াল নেবেন। তারপরে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেবেন ওই বিশাল দলটাকে আর তারপর...

 

***

কাপায়ার পাশে ঘোড়া ছোটাচ্ছিলেন রেচারলা মল্লা। মল্লারা সেই শুরুর দিন থেকেই মুসুনুরিদের হয়ে অস্ত্র ধরে আসছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঠে আসা মানুষগুলো স্থল ও জলপথে সমান দক্ষ।

নায়কগারু, গুপ্তচররা খবর এনেছে। ওরা পালমপেট পেরিয়ে গেছে...

কথায় ছেদ পড়ল। দূরে কৃষকেরা লাঙল টানছিল। রাজাকে চিনতে পেরে একজন বৃদ্ধ চাষি হঠাৎ কাজ থামিয়ে হাত জোড় করলেন। কাতর অনুনয় ফুটে উঠল তার কন্ঠে, দোরা... আমাদের গ্রামটা বাঁচাইয়ো।

কাপায়া ঘোড়া থেকে নেমে মানুষটার দিকে এগিয়ে এলেন। লোকটার চোখে আসন্ন দুর্যোগের আতঙ্ক। এই চোখ তিনি বহুবার দেখেছেন।

দিল্লির সুলতানের অত্যাচারের সময় এটাই, বর্ষা চলে যাওয়ার পর এখানে খুব বেশি তো শীত পড়ে না। তখন উপর থেকে নেমে আসে সুলতানের সেনাবাহিনী। গোটা শীতকাল জুড়ে উৎপাত আর অবরোধ করে তারা।

মন্দির পোড়ায়, গ্রাম উজাড় করে। মানুষ নিজেদের মাটিতেই পরবাসী হতে হয়। লোকালয় ছেড়ে ভদ্রাচলমের ঘন অরণ্যে আশ্রয় নিতে হয় তাদের। ফি বছর এই এক অশান্তি!

কাপায়া আশ্বস্ত করলেন বৃদ্ধকে, মি ভূমি না ভূমি। (তোমার মাটি আমার মাটি।) যতক্ষণ শ্বাস আছে, কেউ কাড়তে পারবে না।"

 

প্রাক্‌কথন

 

১৩২৩ খ্রিস্টাব্দে মোহাম্মদ বিন তুঘলকের জোরদার আক্রমণে ওয়ারাঙ্গাল দুর্গ এবং কাকতিয়া সাম্রাজ্যের পতন হয়। গোটা সাম্রাজ্যই একাধিক ছোটো ছোটো বংশের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়, তাদের মধ্যে অন্যতম মুসুনুরি নায়ক বংশ। শৈব এই যোদ্ধা সম্প্রদায় দীর্ঘকাল ধরে কাকতিয়াদের বিশ্বস্ত ছিল।

মুসুনুরি প্রলয় নায়ক দীর্ঘকাল গেরিলা সংঘর্ষ এবং যুদ্ধের পর অবশেষে ১৩৩০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ওয়ারাঙ্গাল উদ্ধার করেন। কিন্তু তখনও শক্ত হয়ে সিংহাসনে বসে রয়েছেন কাকতীয় বংশেরই এক বিশ্বাসঘাতক গনা রেড্ডি বিদিভু। মূলত তাঁর বিশ্বাসঘাতকতাতেই ওয়ারাঙ্গলের পতন হয়েছিল এবং তিনি ধর্ম পরিবর্তন করে মালিক মকবুল নাম নিয়ে রাজত্ব চালাচ্ছিলেন।

১৩৩৩ খ্রিস্টাব্দে যখন তাঁর প্রলয়া নায়কের ভাই কাপাইয়া নায়ক সিংহাসনে বসলেন, তিনি সরাসরি ৭৫ জন নায়কের সাহায্য পেলেন।

অন্যদিকে ১৩৩৪-৩৫, গোটা সময়টা ধরেই দাক্ষিণাত্য অভিযান চালালেন দিল্লি সুলতান। এদিকে দাক্ষিণাত্যে তখন ভীষণ মড়ক লেগেছে। মোহাম্মদ বিন তুঘলক নিজেও খুব অসুস্থ হয়ে গেলেন। এই সুযোগে কাপায়া নায়ক নিজেকে স্বাধীন রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন এবং ওয়ারাঙ্গল-সহ বাকি অঞ্চলগুলিকে সুলতানি শাসন থেকে মুক্ত করলেন।

এই ঘটনা সেই যুদ্ধেরই কোনও এক সময়কালের ঘটনা।

 

ওয়ারাঙ্গল দুর্গের বাইরে শিবির

 

শীতের পরিষ্কার আকাশে অসংখ্য তারা। পূর্ণিমার চাঁদ তার সবটুকু জোছনা ঢেলে দিচ্ছে প্রাঙ্গণে। বিগত কয়েকদিন বড়ো কঠিন সংগ্রাম গিয়েছে। অদ্ভুত এক লড়াই দিয়েছে নায়কের সৈন্যরা।

পূর্বোক্ত ছোটো বাহিনীটি গেরিলা যুদ্ধে বিপর্যস্ত করেছে সুলতানি বাহিনীকে। সুলতানের বাহিনীকে চকিত এবং ঝটিকা আক্রমণে টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেলেছে। আর তখনই সেই দিশাহারা বাহিনী নিজেদের সবটুকু আক্রোশ মেটানোর জন্য আক্রমণ করেছে মাঠের নিরীহ কৃষকদের; কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি কৃষকের ছদ্মবেশে সেখানে লুকিয়ে ছিল মুসুনারি নায়করা। একদা তাদের মূল জীবিকা ছিল চাষাবাদ। তাই কৃষক হিসাবেও তো তারা সমান দক্ষ। তাই ছদ্মবেশে তাদেরকে ধরা দায় ছিল। কর্দমাক্ত জলামাঠের মধ্যে সুলতানের বাহিনীকে একের-পর-এক নিকেশ করেছে তারা। তবে নিজেরাও যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আসলে মাটির ঋণ বড়ো ঋণ।

এইবার শেষ সংঘাতের পালা। গেরিলা বাহিনীর সঙ্গে মাঠের সেই সকল চাষিরাও এসে যুক্ত হয়েছে। ওয়ারাঙ্গল আর তার আশপাশের অঞ্চলকে মুক্ত করতে পারলেই তারা নিশ্চিন্ত।

সৈন্যদের কেউ অস্ত্র ঘষছে, কেউ ঘোড়ার ক্ষত বেঁধে দিচ্ছে, কেউ-বা আগুনের পাশে বসে রুটি সেঁকছে। এক কোণে কয়েকজন তরুণ সৈন্য লোকগান গাইছে— তাদের মহাদেবের কথা। তাঁর বীরত্বের কথা।

ওয়ারাঙ্গলেরর দুর্গের ভিতর চতুর্মুখী মহাদেব রয়েছেন। তারা যুদ্ধ জিতলে, প্রভুর পুজো হবে। কত কাল প্রভু হয়তো ভালো করে পুজো পাননি।

 

***

সৈন্যদের থেকে একটু দূরে কাপায়া একা জপে বসেছিলেন। হঠাৎ একজন কিশোর সৈন্য এসে প্রণাম করল। রাজা হলেও প্রণাম তিনি বিশেষ পছন্দ করেন না। তাড়াতাড়ি হাত ধরলেন তার।

কিশোরটি প্রগলভের মতো বলে চলল, নায়কগারু... আমি এর্রান্না... আগে কখনও লড়িনি। কিন্তু মা পাঠিয়ে দিয়েছে।

কাপায়া দেখলেন, ছেলেটি মাটিতে পা ঘষছে। দ্বিধার ছাপ স্পষ্ট। কাপায়া হেসে ফেললেন, তাঁর নিজের ছেলের বয়সও প্রায় এতটাই। এই ছেলের সমস্যা তিনি ধরতে পেরেছেন। ছেলেটা ভয় পাচ্ছে তা তিনি বিলক্ষণ বুঝেছেন। তবুও মুখে হাসি টেনে বললেন, ভয় পাচ্ছ?

ছেলেটি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে মাথা নেড়ে বলল, না নায়কগারু...

এইবার কাপায়া উঠে দাঁড়ালেন। তার কাঁধে হাত রাখলেন।

যে ভয় পায় না, সে বোকা। যে ভয়কে সঙ্গে নিয়ে এগোয়, সেই যোদ্ধা। যদি ফিরে আসার ভয় না থাকে, তাগিদ না থাকে তা হলে কেন লড়াই করছ? বৃথা আত্মত্যাগের জন্য কি? তুমি লড়াই করছ তোমার মায়ের জন্য, তোমার মাটির জন্য। তোমার মায়ের জন্য তোমায় ফিরে আসতে হবে। এই মাটিতে লাঙল দেওয়ার জন্য তোমায় ফিরে আসতে হবে। "

এর্রান্নার চোখে আগুন জ্বলে উঠল।

***

সূর্য ওঠার তখনও ঢের দেরি। মাটির উপর কুয়াশা জমে আছে থপথপে হয়ে। অস্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠছে শত্রু সেনাবাহিনীর সুবিশাল অবয়ব। যেন ধূসর সমুদ্র জোয়ারের ঢেউ নিয়ে আছড়ে পড়ার অপেক্ষায়...

কাপায়া নিজের খড়্গ বের করলেন। আর ঠিক তখনই মেঘের আড়াল থেকে সূর্য বেরিয়ে এল। আজ একটু আগেই সূর্যোদয় হল বোধহয়। সূর্যের আলোয় খড়্গখানা আগুনের রেখার মতো ঝলসে উঠল— আন্ধ্রবীরুলারা!

হাজার কণ্ঠ একসঙ্গে গর্জে উঠল, দা-আ-আ-আ-ডি! অর্থাৎ আক্রমণ!

সহস্র অশ্বখুরের ধুলোয় আকাশ ঢেকে গেল। ইস্পাতের সঙ্গে ইস্পাতের সংঘর্ষে আগুন ছিটকে উঠল।

 

***

সন্ধ্যা নেমেছে অনেকক্ষণ। ওয়ারাঙ্গলের আকাশে দীপ জ্বলছে। গ্রাম থেকে গ্রামে মুক্তির বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। সেই বৃদ্ধ চাষি রণকুঠার নামিয়ে কাপায়ার সামনে এসে দাঁড়ায়। কোমরের গাঁট থেকে বের করেন কিছু— একমুঠো ধান! কাঁপা গলায় অভিবাদন করে নায়কের হাতের মুঠোয় তুলে দেন সেই ধান— দোরা, আমাদের দেওয়ার মতো আর কিছু নেই। এটাই নিন।

দূরে অন্ধকার হয়ে আসা ওয়ারাঙ্গলের আকাশের নীচে, বাতাসে উড়তে লাগল কাকাতীয় হিন্দুদের পতাকা। কাপায়া নায়ক দাক্ষিণাত্যে হিন্দুদের হারানো গৌরবের শেষ প্রদীপশিখা। এর বহু বছর পর ছত্রপতি শিবাজি নামে এক হিন্দু যুবক পুনরায় স্বজাতিকে পুনরুজ্জীবিত করবেন।


___________________________________________________________________________


প্রতিরোধে বীর ভারত-সন্তান ধারাবাহিকটির আগের পর্বগুলি পড়ুন:

প্রথম পর্ব:  https://blogs.antareep.in/2025/06/blog-post.html

দ্বিতীয় পর্ব:  https://blogs.antareep.in/2025/06/blog-post_13.html

তৃতীয় পর্ব:  https://blogs.antareep.in/2025/06/blog-post_20.html

চতুর্থ পর্ব:  https://blogs.antareep.in/2025/06/blog-post_24.html

পঞ্চম পর্ব:  https://blogs.antareep.in/2025/06/blog-post_24.html

ষষ্ঠ পর্ব:  https://blogs.antareep.in/2025/07/blog-post.html 

সপ্তম পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/07/blog-post_12.html

অষ্টম পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/07/blog-post_19.html

নবম পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/07/blog-post_27.html

দশম পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/07/blog-post_27.html

একাদশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/08/blog-post_88.html

দ্বাদশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/08/blog-post_15.html

ত্রয়োদশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/08/blog-post_24.html

চতুর্দশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/08/blog-post_30.html

পঞ্চদশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/09/blog-post.html

ষোড়শ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/09/blog-post_13.html

সপ্তদশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/09/blog-post_20.html

অষ্টাদশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/10/blog-post_11.html

ঊনবিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/10/blog-post_25.html

বিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/11/blog-post.html

একবিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/11/blog-post_8.html 

দ্বাবিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/11/blog-post_16.html

ত্রয়োবিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/11/blog-post_22.html

চতুর্বিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/11/blog-post_29.html

পঞ্চবিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/12/blog-post.html

ষট্‌বিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/12/blog-post_14.html

সপ্তবিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/12/blog-post_22.html

অষ্টাবিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2025/12/blog-post_28.html

ঊনত্রিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2026/01/blog-post.html

ত্রিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2026/01/blog-post_17.html

একত্রিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2026/02/blog-post.html

দ্বাত্রিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2026/02/blog-post_14.html

ত্রয়োত্রিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2026/02/blog-post_22.html

চতূস্ত্রিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2026/03/blog-post_2.html

পঞ্চত্রিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2026/03/blog-post_15.html

ষট্ত্রিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2026/03/blog-post_29.html

সপ্তত্রিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2026/04/blog-post.html

অষ্টত্রিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2026/04/blog-post_12.html

ঊনচত্বারিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2026/04/blog-post_19.html

চত্বারিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2026/04/blog-post_26.html

একচত্বারিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2026/05/blog-post.html

দ্বিচত্বারিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2026/05/blog-post_17.html

ত্রিচত্বারিংশ পর্ব: https://blogs.antareep.in/2026/05/blog-post_24.html

 

 

 

মন্তব্যসমূহ